Imtiajnipu
Freedom From Want
Imtiajnipu

ভালবাসার সূত্র


জগৎ কিছু প্রাকৃতিক নিয়মের দ্বারা পরিচালিত হয়। উড়োজাহাজ আকাশে উড়তে পারে কারণ এর উড্ডয়ন কৌশল প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ মধ্যাকর্ষণ শক্তিকে অস্বীকার করে নয় বরং কৌশলে ব্যবহার করেই মানুষ আকাশে উড়তে পারে। একইভাবে ভালবাসার ইতিবাচক শক্তিকে ব্যবহার করতে হলে, কাজে লাগাতে হলে এর ল বা নিয়মও আপনাকে বুঝতে হবে। আর এই ল বা নিয়মটাই হল পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালী ল। আর তা হল আকর্ষণশক্তি-এর নিয়ম বা ল অব এট্ট্রাকশান।

ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনু-পরমানু থেকে শুরু করে নক্ষত্ররাজি সবকিছুই সু-সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে অবস্থান করছে শুধুমাত্র ল অব এট্ট্রাকশানের কল্যাণেই। সূর্যের আকর্ষণশক্তিই গ্রহগুলোকে নিজ নিজ অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। পৃথিবীর আকর্ষণশক্তির টানেই পৃথিবীর সকল মানুষ, প্রাণীকুল, বৃক্ষসমূহ এবং খনিজ পদার্থগুলো পৃথিবীতে অবস্থান করছে। আকর্ষণশক্তির কারণেই পশু-পাখি, বা সমুদ্রের মৎস্যকুল বংশবৃদ্ধিতে অনুপ্রাণিত হয়। আকর্ষণশক্তিই আপনার শরীরের কোষগুলোকে একত্রিত করে রেখেছে, আপনার বাসগৃহের আসবাবপত্রগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে ধরে রাখছে, অথবা যে গাড়িটি আপনি চালাচ্ছেন তাকে রাস্তার উপর থাকতে বাধ্য করছে, কিংবা পানীয় জলকে গ্লাসে ধরে রাখছে। অর্থাৎ যা কিছু আপনি ব্যবহার করছেন তার সবকিছুই সুনির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করছে শুধুমাত্র আকর্ষণশক্তির কল্যাণেই।

আকর্ষণশক্তিই একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের প্রতি আগ্রহী করে তুলে। আকর্ষণশক্তির টানেই মানুষ জাতি, গোত্র, সংগঠন বা সমাজ তৈরি করে। এটা সেই শক্তি যা কাউকে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলে, কাউকে বা রন্ধনশিল্পের প্রতি। এই শক্তিই কাউকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলে আবার কাওউকেবা সঙ্গীতের প্রতি। আকর্ষণশক্তিই আপনাকে আপনার ভালবাসার বস্তু বা স্থানের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এই শক্তিই আপনাকে আপনার ভালবাসার মানুষগুলোর কাছাকাছি থাকতে অনুপ্রাণিত করে।


ভালবাসার আকর্ষণ ক্ষমতা




আকর্ষণশক্তি কি?ভালবাসার শক্তিই মূলত আকর্ষণশক্তি। অর্থাৎ আকর্ষণই ভালবাসা। আকর্ষণ বোধ না করলে প্রিয় মানুষ, খাদ্য, শহর, বাড়ি, গাড়ি, ইত্যাদি কোন কিছুর প্রতিই আপনার ভালবাসা তৈরি হতো না।

“ দ্য ল অব এট্ট্রাকশান বা দ্য ল অব লাভ মূলতঃ এক ও অভিন্ন। ”
Charles Haanel
নবজাগরনী লেখক

ল অব এট্ট্রাকশান বলতে মুলতঃ ল অব লাভকেই বুঝানো হয়। অগনিত গ্যলাক্সি থেকে শুরু করে অতি ক্ষুদ্র এটম বা অনু-পরমানু সবকিছুই সুনির্দিষ্ট স্থানে সু-সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে অবস্থান করছে ল অব লাভ-এর মাদ্ধমে। মহাজাগতিক ল অব এট্ট্রাকশান অনুসারে লাইক এট্ট্রাক্টস লাইক অর্থাৎ রতনে রতন চেনে। বাস্তব জীবনে ইতিবাচক বা নেতিবাচক যা কিছুই আপনি দান করবেন প্রতিদানে তা-ই আপনি ফেরত পাবেন।

“ প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ”
Isaac Newton
গণিত ও পদার্থবিদ

আপনি যখনই কিছু দান করছেন পদার্থ বিজ্ঞান এবং গণিতের নিয়ম অনুসারে আপনি অবশ্যই তার সমপরিমাণ প্রতিদান পাবেন। ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলে আপনার জীবনে ইতিবাচক ঘটনাই ঘটবে। আর নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করলে আপনার জীবন নেতিবাচক ঘটনায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর আপনার চিন্তা এবং অনুভূতিই বলে দেয় আপনি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন না নেতিবাচক।

প্রতি মুহূর্তে আপনি হয় ইতিবাচক চিন্তা করছেন নাহয় নেতিবাচক, হয় আপনার মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হচ্ছে নাহয় নেতিবাচক। আর যা কিছু আপনি চিন্তা করছেন, অনুভব করছেন ঠিক তেমন মানুষ, পরিস্থিতি, ও ঘটনাই আপনার জীবনে সত্যি হয়ে দেখা দেবে।

“ Give, and it will be given to you…for by your standard of measure it will be measured to you in return. ”

Jesus (Circa 5 BC- Circa AD 30)
Founder of Christianity, in LUKE 6:38

আপনি যা কিছু দান করবেন প্রতিদান স্বরূপ তা-ই ফেরত পাবেন। বাসা পরিবর্তনের সময় আপনার বন্ধুকে সহায়তা করুন, আলোর মত দ্রুত গতিতে এই ভাল কাজের ফল আপনি পাবেন। আবার পরিবারের কোন সদস্যের প্রতি ক্ষিপ্ত আচরণ করলে কোন না কোন ভাবে সেই একইরকম আচরনের সম্মুখীন আপনি নিজেও হবেন। আপনার চিন্তা ও অনুভূতির সাহায্যে আপনি নিজেই আপনার নিজের জীবন কেমন হবে তা নির্ধারণ করছেন। আপনি যদি অনুভব করেন ‘ আজকের দিনটা খুব খারাপ ও যন্ত্রণাদায়ক’ তাহলে আপনি আরও খারাপ ও যন্ত্রণাদায়ক দিন আকর্ষণ করে আনবেন। আর আপনি যদি অনুভব করেন ‘ জীবন আনন্দে পরিপূর্ণ’ তাহলে সত্যিই আপনার জীবন আনন্দময় মানুষ, ঘটনা ও বিষয়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
Imtiajnipu
পৃথিবীর সকল আবিষ্কার, উদ্ভাবন বা সৃষ্টির পেছনে কাজ করেছে ভালবাসার শক্তি। নিজ কাজের প্রতি ভালবাসা না থাকলে রাইট ভাইয়েরা উড়োজাহাজ আবিষ্কারে ব্রতী হতেন না। আবার ভালবাসার টানেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, বা আবিষ্কারকগণ বিদ্যুৎ, তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করেছেন। গাড়ি, মোবাইল, বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে তার কোনকিছুই আবিষ্কৃত হতোনা যদিনা তাঁরা আপন কর্মের প্রতি ভালবাসা অনুভব করতেন। ভালবাসা না থাকলে স্থাপত্যশিল্পী ঘর, বাড়ি, বা শহর তৈরি করতেন না। ভালবাসা ছাড়া ঔষধ, ডাক্তার, বা জরুরী স্বাস্থ্য সেবা কিছুই থাকতো না। থাকতো না কোন শিক্ষক, বিদ্যালয়, বা শিক্ষা ব্যবস্থা। থাকতো না কোন বই, চিত্রকর্ম, বা সঙ্গীত। কারণ এর সবই সৃষ্টি হয়েছে ভালবাসার টানে। আপনার চারপাশে তাকিয়ে দেখুন, যা কিছু আপনি দেখছেন ভালবাসা না থাকলে এসব কিছুই থাকতো না।

“ ভালবাসা ছাড়া পৃথিবী যেন একটি প্রাণহীন শ্মশান। ”
Robert Browning
কবি

ভালবাসাই জীবনের চালিকাশক্তি
ভালবাসা আছে বলেই আপনি জীবনে কিছু হতে চান, পেতে চান, বা করতে চান। ভালবাসা ছাড়া আপনি সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে কাজ করবার, কথা বলবার, গান শুনবার, অথবা অন্য কোন কাজ করবার অনুপ্রেরণা পেতেন না। ভালবাসা ছাড়া আপনি যেন ঠিক একটা পাথরের মূর্তির মতই প্রাণহীন, নির্জীব। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্র তথা স্বাস্থ্য, সম্পদ, পেশা, সম্পর্ক সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের শক্তি আপনার রয়েছে, আর সেই শক্তি হচ্ছে ভালবাসা।

কিন্তু সত্যিই যদি সেই শক্তি আপনার মধ্যে থাকে তবে কেন আপনার জীবন আশ্চর্য সুন্দর নয়? কেন আপনি যা চান তা-ই পাচ্ছেন না? কেন আপনি যা যা করতে চান তা এখনও করতে পারছেন না? কেন আপনার জীবন আনন্দে পরিপূর্ণ নয়?

উত্তর হচ্ছেঃ আপনি নিজেই এ জীবন বেছে নিয়েছেন। ইতিবাচক ও নেতিবাচক এ দু’ধরনের শক্তি থেকে আপনিই বেছে নিয়েছেন কোন শক্তির চর্চা আপনি করবেন। জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে আপনি নিজেই আপনার ইতিবাচক বা নেতিবাচক অবস্থান নির্ধারণ করছেন। যখনই আপনার মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি হয় তখনই আপনার ভেতর ভালবাসার শক্তি জাগ্রত হয়। আর ভালবাসাই আপনার জীবনের সব মঙ্গলের উৎস। আবার একই ভাবে ভালবাসার অভাবই সকল অমঙ্গল ও দুঃখ কষ্টের কারণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি আজকের পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে ভালবাসার শক্তির এই বোধটুকুর খুব অভাব রয়েছে।

“ ভালবাসাই পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালী অথচ এখন পর্যন্ত দুর্বোধ্য শক্তি। ”

Pierre Teilhard de Chardin
ধর্মযাজক ও দার্শনিক

আর এখন আপনি মঙ্গলময় জীবনের উৎস এক ও অদ্বিতীয় শক্তির কথা জানছেন, আর এই জ্ঞান আপনার জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দেবে। কিন্তু তার আগে আপনাকে বুঝতে হবে এই শক্তি কিভাবে কাজ করে।
Imtiajnipu
এক মহান শক্তি

“ শক্তি কি আমি জানিনা, আমি শুধু জানি তা আছে। ”
Alexander Graham Bell
দূরালাপনি যন্ত্রের আবিষ্কারক

জীবন খুবই সহজ। ইতিবাচক এবং নেতিবাচক শুধুমাত্র এই দু’ধরনের বস্তু বা বিষয় দ্বারা আপনার জীবন গঠিত। স্বাস্থ্য, সম্পদ, সম্পর্ক, সুখ অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনার অবস্থান হয় ইতিবাচক না হয় নেতিবাচক। হয় আপনি প্রচুর অর্থের মালিক আর না হয় অর্থাভাবে জর্জরিত। হয় আপনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী আর না হয় আপনি জরাগ্রস্থ। কর্মজীবনে আপনি সুখী-সফল আর না হয় অসুখী-ব্যর্থ। হয় আপনার জীবন আনন্দে পরিপূর্ণ আর না হয় দুঃখভারাক্রান্ত। আপনার জীবনের কোন কোন বছর সফলতায় পরিপূর্ণ, আবার কোনটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত। আপনার জীবনে কখনও আসে ভাল সময় আবার কখনও দেখা দেয় দুঃসময়। কোন কোন দিন শুভ, আবার কোনটা বা অশুভ।

আপনার জীবনে যদি ইতিবাচক বিষয় বা বস্তুর চেয়ে নেতিবাচক বিষয় বা বস্তুর উপস্থিতি বেশী হয় তাহলে জেনে রাখুন কোথাও অবশ্যই কোন একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। অন্যের সুখী-সমৃদ্ধ জীবন আপনাকে বলে সেই একই রকম সুখী-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকার আপনারও রয়েছে। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে পরিপূর্ণ জীবন অর্জনের যোগ্যতা আপনার আছে।

পৃথিবীতে যারাই সফল হয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই সফলতা অর্জনের জন্য নিজের অজান্তেই একটা বিশেষ শক্তিকে ব্যবহার করেছেন। আর এই বিশেষ শক্তি বা পাওয়ার হচ্ছে ভালবাসা।

পৃথিবীর সব মহান ধর্মে ভালবাসার অসীম শক্তির কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর সকল চিন্তাবিদ, দার্শনিক, অবতার এই শক্তির কথা উল্ল্যেখ করেছেন। কিন্তু আমরা অনেকেই তা বুঝতে পারিনি, উপলব্ধি করতে পারিনি। ‘ভালবাসো’ তাঁদের এই শিক্ষা সকল যুগের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য, কারণ আপনি যখন ভালবাসছেন তখন আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে মহান শক্তিকে ব্যবহার করতে শিখছেন।

ভালবাসার শক্তি

“ যদিও ভালবাসা চোখে দেখা যায়না, তথাপি তা বাতাস কিংবা পানির মতই বাস্তব। এটা একটা কার্যকর, জীবন্ত ও সদা-সঞ্চারণশীল শক্তি। মহাসমুদ্রের তরঙ্গের মতই এটা নিয়ত প্রবাহমান। ”
Prentice Mulford
নবজাগরণী লেখক

জগতের মহান চিন্তাবিদ এবং অবতারগন ভালবাসা বলতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা প্রিয় বস্তু-বিষয়ের প্রতি যে ভালবাসা তাকে বোঝাননি, বরং এখানে ভালবাসা বলতে একটা ইতিবাচক শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। আর ইতিবাচক শক্তি অগণিত বা অসংখ্য নয়, বরং এক ও অদ্বিতীয়।

অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তি যেমনঃ মধ্যাকর্ষণশক্তি বা মহাকর্ষ শক্তির মতই ভালবাসাও চোখে দেখা যায়না, কিন্তু সন্দেহাতীত ভাবে অনুভব করা যায়। চোখে দেখা না গেলেও ভালবাসার শক্তি অন্য যেকোনো প্রাকৃতিক শক্তির চাইতে তীব্রতর।

একটু ভেবে দেখলেই বুঝতে পারবেন ভালবাসা ছাড়া আপনি, আপনার পরিবার, এমনকি পৃথিবীর কোন মানুষই জন্ম লাভ করতেন না। আজ যদি কোন কারনে পৃথিবী ভালবাসাহীন হয়ে পড়ে তবে মানব জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।