Imtiajnipu


THE RIGHT TO BE RICH
আমরা সবাই রাজা


হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছো মহান-বলে দারিদ্র্যতার যতই প্রশংসা করা হোক না কেন, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছাড়া জীবনে পূর্ণতা বা সফলতা অর্জন অসম্ভব। প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশ বা আত্মিক উন্নতি কোনটাই পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে সম্ভব নয়। কারণ আত্মিক উন্নতি বা প্রতিভা বিকাশের জন্য এমন অনেক কিছুই প্রয়োজন টাকা ছাড়া যা পাওয়া যায় না।

পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় একজন মানুষের মনো-দৈহিক উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবই টাকা দিয়ে কিনতে হয়। আর তাই জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়নের মূলভিত্তি প্রাচুর্যের বিজ্ঞান বা সায়েন্স অব গেটিং রিচ।


নিয়ত বিকাশই জীবনের লক্ষ্য। আর সম্ভাবনা বা প্রতিভার পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ পাওয়া সবার জন্মগত অধিকার। পরিপূর্ণ মনো- দৈহিক বিকাশের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা পাওয়ার অধিকার পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের আছে।

অল্পতে সন্তুষ্ট থাকাকে পূর্ণতা বলে না। যে মানুষের রয়েছে অপার সম্ভাবনা সে কখনো অল্পতে সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশই প্রকৃতির ধর্ম। প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ , অভিজাত, সুন্দর জীবনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই মানুষের জন্মগত অধিকার, এর চেয়ে কম সন্তুষ্ট থাকা অপরাধ।

বর্তমান জটিল নাগরিক জীবনে আপাত সচ্ছল জীবন যাপনের জন্যও প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। প্রত্যেক মানুষই পূর্ণতা চায়। এটা মানব প্রকৃতিরই অংশ। জীবনে আপনি যা হতে চান, পেতে চান, তা অর্জন করাই প্রকৃত সফলতা, পূর্ণতা। আর তার জন্য প্রয়োজন অর্থের। তাই “প্রাচুর্যের বিজ্ঞান” বা “সায়েন্স অব গেটিং রিচ” এত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পদের আকাঙ্ক্ষা থাকা কোন অপরাধই নয়। বরং এটা জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশের চাহিদার নামান্তর মাত্র। আর পূর্ণতা অর্জনের এই আকুতি অবশ্যই প্রসংশার দাবিদার। জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা যে মানুষের নেই তাকে আপনি সুস্থ বলতে পারেন না।

শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক উন্নতির জন্যই আমরা বেঁচে থাকি। আর জীবনের এই তিন দিকের কোনটিই একে অপরের চাইতে উন্নত বা পবিত্র নয়। বরং সবগুলোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক বা শারীরিক পূর্ণতা ব্যতিরেকে আধ্যাত্মিক সফলতা অর্থহীন। আবার শারীরিক ও আত্মিক উন্নতি ছাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ মূল্যহীন।

জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশের অর্থ শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের এই তিন ক্ষেত্রেই পূর্ণতা অর্জন। মানুষ স্বীকার করুক আর না-ই করুক জীবনের এই তিনদিকের কোন একটিতে অপূর্ণতা থাকলে মানুষ সুখী হতে পারে না।

শারীরিক সুস্থতার জন্য মানুষের প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য, আরামদায়ক পরিধেয় এবং নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজন বিশ্রাম ও বিনোদনের। অন্যদিকে মনের খোরাকি হচ্ছে বই এবং প্রিয় স্থানে ভ্রমন ইত্যাদি। আর আত্মিক শান্তির জন্য প্রয়োজন ভালবাসা আর ভালবাসার মানুষ।

ভালবাসার মানুষের, প্রিয়জনের মঙ্গলের মধ্যেই নিহিত থাকে মানুষের সত্যিকারের আনন্দ। আর ভালবাসার স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ হয় উপহার প্রদানের মাধ্যমে। আর স্বামী, পিতা, নাগরিক বা মানুষ হিসেবে যার কিছুই দেওয়ার নেই তাকে আপনি সফল বলতে পারেন না। তাই প্রাচুর্য অর্জনই জীবনের প্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত।

একজন সুস্ত মানুষ হিসেবে প্রাচুর্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তাই সম্পদ অর্জনের বিজ্ঞান বা সায়েন্স অব গেটিং রিচ আয়ত্ব করা আপনার অবশ্য কর্তব্য। একে উপেক্ষা করা নিজের প্রতি তো বটেই এমন কি স্রষ্টা ও মানবতার প্রতি যে দায় তাকে উপেক্ষা করার সামিল। কারণ স্রষ্টা আপনার মধ্যে যে সম্ভাবনা ও সম্পদ দিয়েছেন তার সর্বোত্তম ব্যাবহার না করে স্রষ্টা ও মানবতার কল্যাণ সম্ভব নয়।
0 Responses

Post a Comment